This site is under develop. contact click here

ভাষার নামে দেশের নাম রাখেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু

দারুস সালাম শাকিলের ফেইসবুক থেকে নেওয়া

ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু
শহীদ রফিক – জব্বার – বরকত আমাদের প্রেরণা। তাদের যিনি প্রেরণা যুগিয়েছিলেন, ভাষা আন্দোলন যার মস্তিষ্কজাত, ভাষা বীরদের প্রিয় নাম মুজিব ভাই ও ভাষা আন্দোলনের কিছু ঘটনা তথ্যাদি সহ আলোচনা করব।

বঙ্গবন্ধুই বাংলা ভাষার প্রথম প্রস্তাবক
ভাষা সৈনিক গাজীউল হক তার ‘আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা’ গ্রন্থে বলেন, “১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তানের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে ভাষা বিষয়ক কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়। সম্মেলনের কমিটিতে গৃহীত প্রস্তাবগুলো পাঠ করলেন সেদিনের ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান”।
ভাষা সম্পর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করে তিনি বললেন, “পূর্ব পাকিস্তান কর্মী সম্মেলন প্রস্তাব করিতেছে যে, বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের লিখার বাহন ও আইন আদালতের ভাষা করা হউক। সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হইবে তৎসম্পর্কে আলাপ-আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার জনসাধারণের উপর ছাড়িয়া দেওয়া হউক। এবং জনগণের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গৃহীত হউক”।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন ভাষার প্রথম ইশতিহার প্রণয়নকারী
১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সমকালীন রাজনীতিবিদসহ ১৪ জন ভাষা বীর সর্বপ্রথম ভাষা-আন্দোলনসহ অন্যান্য দাবি সংবলিত ২১ দফা দাবি নিয়ে একটি ইস্তেহার প্রণয়ন করেছিলেন। ওই ইস্তেহারে ২১ দফা দাবির মধ্যে দ্বিতীয় দাবিটি ছিল রাষ্ট্রভাষার ব্যপারে। ঐতিহাসিক এই ইস্তেহারটি একটি ছোট পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয়েছিল যার নাম ‘রাষ্ট্র্রভাষা-২১ দফা ইস্তেহার- ঐতিহাসিক দলিল’। উক্ত পুস্তিকাটি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত।

এই ইস্তেহার প্রণয়নে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ছিল প্রধানতম এবং তিনি ছিলেন অন্যতম স্বাক্ষরদাতা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পাকিস্তান সৃষ্টির তিন-চার মাসের মধ্যেই পুস্তিকাটির প্রকাশনা ও প্রচার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অধিবাসীদের জন্য পাকিস্তান নামের স্বপ্ন সম্পৃক্ত মোহভঙ্গের সূচনার প্রমান বহন করে। পুস্তিকাটি যাদের নামে প্রচারিত হয়েছিল তারা সবাই অতীতে ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনে সম্পৃক্ত নিবেদিত প্রাণ কর্মী। উল্লেখ্য, এদেরই একজন ছিলেন ফরিদপুরের (বর্তমানে গোপালগঞ্জ) শেখ মুজিবুর রহমান; পরবর্তীকালে যিনি বঙ্গবন্ধু হিসেবে বাংলাদেশ সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন (বিস্তারিত তথ্যের জন্য দেখুন : রাষ্ট্রভাষা-২১ দফা ইস্তেহার- ঐতিহাসিক দলিল, শায়খুল বারী, পুনঃপ্রকাশ জানুয়ারি, ২০০২)।

ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রথম গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি
৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগ গঠন করার পর ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন। এবং এই দিনেই রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট ডাকেন।ভাষাসৈনিক অলি আহাদ তাঁর ‘জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ১৯৭৫’ গ্রন্থে লিখেছেন, “আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার নিমিত্তে শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ হতে ১০ মার্চ ঢাকায় আসেন”।

১১ মার্চের হরতাল কর্মসূচিতে যুবক শেখ মুজিব এতটাই উৎসাহিত হয়েছিলেন যে, “এ হরতাল ও কর্মসূচি তার জীবনের গতিধারা নতুনভাবে প্রবাহিত করে”। ভাষা আন্দোলন ৫২ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও শুরুটা কিন্তু ১১ মার্চ ৪৮ সালেই।

১৯৪৮ সালের ১৫ মার্চ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ-এর সঙ্গে তদানীন্তন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে আট দফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে জেলখানায় আটক ভাষা আন্দোলনের কর্মী রাজবন্দিদের চুক্তিপত্রটি দেখানো হয় এবং অনুমোদন নেয়া হয়, অনুমোদনের পর চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

কারাবন্দি অন্যদের সঙ্গে শেখ সাহেবও চুক্তির শর্ত দেখেন এবং অনুমোদন প্রদান করেন। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে সর্বপ্রথম বাংলাভাষা শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল এবং চুক্তির মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল এবং চুক্তির শর্ত মোতাবেক শেখ সাহবেসহ অন্য ভাষাসৈনিকরা কারামুক্ত হন। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে একটি প্রতিষ্ঠিত সরকার এ দেশবাসীর কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য হয়েছিল।

১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষ্যে এক সাধারণ ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে পূর্ববাংলা আইন পরিষদ ভবন অভিমুখে এক মিছিল বের হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সদ্য কারামুক্ত নেতাশেখ মুজিবুর রহমান।৪৯ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনে দুইবার গ্রেফতার হন। ৫২ সালের ২১শে ফেব্রুআরি ও তাকে জেলেই থাকতে হয়েছিল, তবু কর্মী সাজসে আন্দোলন ঠিকই ডাক দিয়ে যান। শহীদ মিনারের নির্মাণ উদ্দ্যোগ ও কিন্তু বঙ্গবন্ধুই নিয়েছিলেন। গাফফার চৌধুরী জীবীত আছেন, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গানের রচয়িতা। তার মূখ থেকেই শোনা বঙ্গবন্ধুর অনুরোধেই গানটি লিখেন তিনি।

সবচেয়ে বড় কথা – পৃথিবীর একমাত্র দেশ বাংলাদেশ যার নাম ভাষার নামে নামকরণ হয়েছে। ভাষার নামে দেশের এ নাম রাখেন এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। একটা লেখায় ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভুমিকা তুলে আনা অসম্ভব।

লেখক,
দারুস সালাম শাকিল
সাংগঠনিক সম্পাদক,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

Tags: ,

সর্বশেষ সংবাদ

রূপগঞ্জে ৮০০পিস ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পর পুলিশের অস্বীকার
পৃথিবীর দশ গুণ ভারী গ্রহ, সূর্যকে চক্কর দিতে লাগে ২০ হাজার বছর
নির্বাচনকালীন সরকারের নামে হুমকি দেবেন না: হাছান মাহমুদ
‘ব্লগার রাজীব হত্যায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রানা মালয়েশিয়ায় পালিয়েছিল’
ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ: গোপালগঞ্জে ৩ বখাটের বিরুদ্ধে মামলা
শরীরিক গঠন নিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা
নিজের নাক আসল দাবী করলেন প্রিয়াঙ্কা
ভাষার নামে দেশের নাম রাখেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু
লস এন্জেলেসে স্বরস্বতী পূজা উদযাপিত
নরসিংদীতে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের আলোর দিশা বাঁধনহারা
You Will want the Essay for sale or money, research to the Internet?
পেট ব্যথা : অবহেলা করবেন না
ঘুমের আগে মোবাইল ব্যবহার মৃত্যু ডেকে আনে
কোমর ব্যাথা : কারণ, করণীয় এবং প্রতিকার
বড় ভাই হিসেবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব : আবিদ
জেনে নিন ক্যান্সারের ১০ লক্ষণ ও তার প্রতিকার
‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত তুরাগ তীর
মি. বিন : নির্বাক ছবির জাদুকর
সুখি জীবনের জন্য ২৪ টি টিপস